একটি শিরোনাম চোখে পড়ল, “শেষ পর্যন্ত যা ঘটল, তা অবাক করবে সবাইকে!” কৌতূহল সামলাতে না পেরে ক্লিক করলেন। কিন্তু খবরের ভেতরে গিয়ে দেখলেন, শিরোনামের মতো চমকপ্রদ কিছুই নেই। এটাই ক্লিকবেইটের পরিচিত কৌশল।
ক্লিকবেইট কি ইন্টারনেটের আবিষ্কার?
পুরোপুরি নয়। এর শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের সংবাদপত্রের যুগে।
সংবাদপত্রের বিক্রির লড়াই থেকে ক্লিকের প্রতিযোগিতা
১৮৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংবাদপত্র পাঠক আকর্ষণ করতে চটকদার শিরোনাম, অতিরঞ্জিত খবর ও নাটকীয় উপস্থাপনা ব্যবহার করত। এই প্রবণতা পরিচিতি পায় ইয়েলো জার্নালিজম নামে।

তখন লক্ষ্য ছিল বেশি পত্রিকা বিক্রি করা। ডিজিটাল যুগে সেই প্রতিযোগিতার ধরন বদলে গেছে। এখন অনেক অনলাইন সংবাদমাধ্যমের আয়ের সঙ্গে বিজ্ঞাপন, পেজভিউ ও পাঠকের ক্লিক জড়িত।
ফলে শিরোনাম শুধু খবরের পরিচয় নয়, পাঠককে ওয়েবসাইটে আনার হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে।
ইন্টারনেট কীভাবে ক্লিকবেইটকে জনপ্রিয় করল?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারে মানুষ এখন ফিডে দেখা শিরোনাম থেকেই অনেক খবর পড়তে যান। চমকপ্রদ ভাষা, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা আবেগনির্ভর উপস্থাপনা পাঠকের কৌতূহল বাড়াতে পারে।

কিন্তু আকর্ষণীয় শিরোনাম মানেই ক্লিকবেইট নয়। সমস্যা তখনই, যখন শিরোনাম খবরের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মেলে না, গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট আড়াল করে অথবা এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়, যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।
ক্লিকবেইট শব্দটির ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন Dictionary.com-এর এই ব্যাখ্যা।
ক্লিকের চেয়ে কি পাঠকের আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
সংবাদমাধ্যমের পাঠক আকর্ষণ করা জরুরি। তবে শুধু ক্লিকের সংখ্যা দিয়ে সাংবাদিকতার মান বিচার করা যায় না। একটি খবর অনেক মানুষ পড়লেও তাতে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা থাকলে পাঠকের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই শিরোনাম আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠ হওয়া দরকার। পাঠকেরও উচিত শুধু শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং যাচাই না করে খবর শেয়ার না করা।
শেষ কথা
ক্লিকবেইটের কৌশল ইন্টারনেটের আগে থেকেই ছিল। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেটিকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। আগে প্রতিযোগিতা ছিল পত্রিকা বিক্রির, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা ক্লিক ও মনোযোগের।
ক্লিক পাঠককে একবার আনতে পারে, কিন্তু পাঠকের আস্থা অর্জন করতে পারে কেবল নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতা।
